Tuesday, August 31, 2021

সোনালী চক্রবর্তীর কবিতা সম্পর্কে বিদিশা সরকার

 

ভৈরবীর দিনমান
--------------------
সোনালীকে আমি এইভাবেই পড়ি। সোনালীর সমগ্র। সোনালীর মার্গ দর্শন। যখন নিজেই নিজের কবিতা সম্পর্কে কবিতা বেশাতি এ কথাই বলেছিলাম। তখন মমিস্রোতে সেই বেহায়া নাম্নী যদি তার দগ্ধ দাগগুলো দশাশ্বমেধে রূদ্র রূপ নিয়ে জিভের মানুষটিকে উদ্দেশ্য করে কিছুটা উচ্চকিত হয়ে বলে "ভাদ্রমাসে দেখেছি পেখমরাত জুড়ে তুলো - তুলো সন্ত্রাসবাদ ...."
অথবা " ছায়াপথ পোড়া ছাই উড়ে এসে বৃষ্টি নামালে তোমাকেও কি বলা যায়,শঙ্খ পায় সখা,পাখি সুখ না ছড়ালে পরাগও বিষই লাগে"।একে কখনো আক্ষেপানুরাগ বলা যায় না।তিতীক্ষার সুপ্ত আস্ফালনও নয়। পাত্র থেকে উপচে পড়া অমৃতের অপচয় ও বিষোদগার ‌। জানি না ক'জন ভৈরবীর কান্না শুনেছেন বা শোনার প্রয়োজন বোধ করেছেন।বস্তুবাদীদের কাছে ভোগ্য সীমাবদ্ধ সময়ের পর উচ্ছিষ্ট ছাড়া কিছুই নয়। আমার পরের কবিতায় পৌঁছতে সময় লাগে।ভাবি কি ভাবে শুকিয়ে যায় চোখের জল। আবার নতুন আয়োজনের প্রস্তুতি পর্বে সেই অনিবার্য সত্যি কথাটা বলবে বলেই এই পূর্ব প্রস্তুতি। "অথচ বিষাদনামায় দাসখত লিখেও/ কেউ বুঝল না আজও ,/ কোন যাতনায় তার শরীরে রোহিণীর সওগাত রাইয়েরই নীলাম্বরী।"
আমি কবি সোনালী চক্রবর্তী'র "মমিস্রোতে বেহায়া সিন্থ"এর কথা বলছিলাম। আভোগি উত্তাপ বিষয়ক কিছু আশ্লেষ তারাণা'র অন্তে অর্গাজমের ঠিক আগের মূহূর্তে ছিঁড়ে যাওয়া বেহালার ছর ও পর্দার অন্তরালের অযাচিত অবারন বৃষ্টির শীর্ণ প্রগলভ ধারা যেন প্রোযেক্টরে ভেসে উঠছে আর আমারই পরণের শাড়িটা সেই ছায়াছবিতে ছুঁড়ে দিয়ে বলছি ' বসন পরো মা ......।
এই বই বিষয়ে এর বেশি একটা কথা আমি বলতে পারব না। বইয়ের একটা কবিতা দিয়ে শেষ করব।
পাখি, ঘুড়ি আর সুতো - সুতো মানুষ
-------------------
একটা মেয়ে ভালোবাসলে পাড়ে বসে আয়ু ফুরিয়ে দেয়।যার নাম কুবের সে ঘরের দায়ে রোজ জাল ফেলে। নিজেকে পাখি জেনে বেচবে বলে কোনো-কোনো পাগল বাজারে পৌঁছে দেখে হাজার হাজার মৃত চাঁদ আঁশটে জলে ঢুবে খাবি খায়।ঘুরিটা উড়তে উড়তে ভাবে, আহা,কী সরল মাটির গান,বঁটি দিয়ে কিছু জ্যোৎস্না কুচিয়ে দেওয়া গেলে তিনটে মানুষেরই অন্ধকার নেভানো যায়।
প্ল্যাটফর্ম প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত।
শুভেচ্ছা সহ
বিদিশা দি ❤️

No comments:

Post a Comment