Monday, August 30, 2021

সোনালী চক্রবর্তীর দুটি কবিতা

 

বসন্ত কেবিন 

খাঁজে খাঁজে বিষাদ জমে যে প্রস্তরের নাম প্রাচীন দাঁড়ালো তা কোন খাদজ মধু বিহার হলো না, উচ্ছ্বাস পূর্ণিমা দর্শনের ভাব দৃষ্টিতে নিহিত থেকে গেলো, চন্দ্রভূমিকায় ছায়া সৈনিক। তোমায় বলা হলো না সব কেবিনের বসন্ত পরিযায়ী হয় না, যেমন প্রতিটি জনাকীর্ণ রাজপথে হাঁটা আদতেই এক- একটি অন্তহীন শ্মশান যাত্রা। মুদারায় হংসধ্বনি নিয়ে আমি বৃষ্টির শালিক দেখছিলাম, শীত আর জলের বাস্তবতায় যার হাহাকার ধুয়ে যায়নি, অভিশাপ হয়ে গেঁথে গেছে আত্মায় আর নি:সঙ্গতার আধুনিক লাইটহাউসদের পরে নিতে দেখা গেছে ফ্লাইওভারের পোশাক। ধুঁয়া আছে, যেমন থেকে যায় মৃত প্রেমের ক্ষত, শুধু জাতিস্মর হতে না পারার আক্ষেপে ভস্ম করলাম স্মৃতি, দহনজন্মের উত্তরাধিকার এই আদিম চিন্হ।



অভিসম্পাত 

ব্যথা গভীর হলে নাড়ির কথা মনে পড়ে। মানুষ দাবী করে জন্মের যন্ত্রণা শুধু তার, প্রমাণে বিছিয়ে দেয় নদীর জরায়ু চিরে কঠিন কংক্রিট জাল। মানুষ এমনও ভাবে মৃত্যুর অধিকার একা তার আর জমা হতে থাকে ফরেস্ট শ্মশানে তৃতীয় পাণ্ডবের লাশতবুও মৃত নক্ষত্রের অভিসারী আলোরা অবিচল সারল্যে খেলে অনামী গ্রাম্য পালকের ডানায়। আক্ষেপ কী জানো? প্রতিশোধের কোন মৌলগুণ নেই। ডিপ্রেশনের ওষুধ সংক্ষিপ্ত করে না দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর তালিকার আত্মহনন। তবু মানুষ জন্ম-মৃত্যুর মালিকানা নিয়ে ছিঁড়েই চলে আদিভূমির যাবতীয় নাভিচিণ্হ, ধূসর করে চলে নমন। আজও সে জানলো না অরণ্যের বিষাদ জমলে ক্ষেত্রফল মাপে দুর্ভেদ্য কুয়াশার চারণ, দীর্ঘশ্বাসের গর্ভ থেকে কখনো মোছা যায় না অভিশাপের ক্ষরণ।


No comments:

Post a Comment