শুভ জন্মদিন সোনালী:
তীর্থের কাকের কেন অপেক্ষার জন্য খ্যাতি আমি আজও বুঝি না, ব্যাটা অপেক্ষা কি জানে নাকি? কিছু প্রিয় মানুষের সাথে তবু দেখা হয়ে গেছে করোনার সময়ে ভার্চুয়ালি, বাঙালী নব বিবাহিত দম্পতির আয়না দেখার মতো। বাস্তবে সোনালীর সাথে দেখা হয় নাই আমার, আয়নায় দেখা হয়েছে ভিন্নচোখের লাইভ করার সময়, নিচের ছবিটা ব্যাকস্টেজে সেই সময়ই ধরে রাখা, জন্মদিনে উইস করার জন্যই ফ্রেমটা রেখে দিয়েছিলাম।
জন্মদিনে তোমার জন্য একটা নতুন লেখা উপহার পাঠালাম সোনাই, ভালবাসা আর শুভ কামনা অনেক অনেক, ভাল থেকো খুব।
আয়নামহল।।
আলী, কয়েকটা গাঁট কিছুতেই ভাঙছে না
: দেখো, তুমি মারা যাবার পর আমি একটা ব্ল্যাকহোলের মতো আবর্তে পড়ে গিয়েছিলাম....তারপর একের পর এক ঝড়
: একটা সময় জীবন থেকে পিছিয়ে পিছিয়ে শয্যাশায়ী, নির্ঘুম, ট্রমায় ছিলাম কয়েক বছর....
: এখনও কাউন্সিলিং করাই, রেগুলার করাতে বলে, হয় না...কিন্তু মেডিক্যাল ওয়াচে থাকি
: এসব নিয়ে কাউকে বলি না। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কখনও তোমাকে বলব
: কিন্তু এখন বলা মানে নিজের ওপর ঝড়কে আবাহন করা
: যে জায়গায় পৌঁছেছিলাম,জীবনের মূলস্রোতে ফিরে পড়াশোনা চাকরি এসব করতে পারব বলে আমার ডাক্তাররাও আশা রাখেননি
: এই সময়টা আমার ভেতরে বহু কিছু ভেঙে দিয়েছে,তছনছ করে দিয়েছে।
: কয়েক বছর,কোন বই পড়িনি, সিনেমা দেখিনি, গান শুনিনি, নতুন কিছু শিখিনি
: নিজের সমস্ত ক্ষমতায় মরচে পড়ে গেছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কোনক্রমে কিছু মেধা বেঁচে গিয়েছে
: অব্যবহার আর ধ্বংসের চরম
: ফোকাস অসম্ভব রকম সরে গিয়েছে। বই পড়তে পারি না আলী, কোন বই
: কেউ টাস্কের মতো করে পড়তে দিলে ঝড়ের বেগে চোখ বুলিয়ে দিই
: আত্মস্থ করার যে কোন পদ্ধতিকে ভয় করে
: ছবি আঁকা শিখতে পারি না, আঁকতে পারি না....ভয়ে পিছোই
: লিখতে গেলে লেখাটাকে দূরে ঠেলতে থাকি
: সমস্ত কিছু থেকে ভয়াবহভাবে পালাই। লঘু তরল জিনিসপত্রে নিজেকে ভুলিয়ে রাখি, রাত্রে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিই
: অর্থবহ সব কিছুকে ভয় হয়
: কুরে কুরে খায়, এই জীবনে না থাকাটা
: কিন্তু এভাবে বাঁচা, না বাঁচার সামিল। গোটা একটা জীবন এই শামুকের মতো বেঁচেছি। এবার দরকার হলে নিজেকে আছড়ে ভেঙে সত্যিকারের বাঁচতে হবে
: সেই এক প্রসেস, ভাঙবার, ব্যর্থ হবার....এক, এক, এক
: আমার বাবা মানসিকভাবে সুস্থ নেই...ওনার চাকরিও বেশিদিন নেই। আমার মার বড়ো সাধ আমাকে কৃতী দেখার
: উনারা আর কবছর বাঁচবেন?
: আমার বাবার কোন সঞ্চয় নেই, আজীবন সব জলের মতো গেছে। স্থাবর অস্থাবর কিচ্ছু না। কারো শরীর খারাপ হলে তাকে যুঝবার মতো বল নেই আর্থিক।
: যা করতে হবে আমাকে.....মা-বাবার স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাক আপ, বাড়িঘর বানানো, ভাইকে পড়ানো। সব
: বাবাকে সুখী দেখতে চাই, নির্ভারও
: আর সাতদিন আছে পরীক্ষার। আমি জানি আমি অক্ষরও পড়িনি।
বড় চাচা বহুদিন চুপ আছে, এই পরীক্ষাটার জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর ফের বিয়ের কথা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে
: বাবা সক্ষম না, চাচু হাত ঝেড়ে ফেলতে চায়
: আমার দাদুর প্রাণ ছিলাম আমি। দাদু চাইতেন লেখাপড়ায় আমি যাতে সবার আগে থাকি। ছিলামও, উনি যতদিন বেঁচে ছিলেন। আম্মা এখনও বলেন, যে সক্ষম থাকতে থাকতে আমাকে আমার জায়গায় দেখতে চান
: চাচার সমস্ত ব্রেনওয়াশ সত্ত্বেও, উনি এখনও চান আমি পড়াশোনায় দারুণ কোন উচ্চতায় পৌঁছাই
: আলী, ম্যাক্সিমাম লড়াই করে আর এক বছর সময় পাব আমি।
: তার মধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার রাস্তায় এনে ফেলতে হবে। লড়াইয়ের স্পিরিট আর নিজের প্রতি নিজের সম্মান ততদিনে ফেরত পেয়ে যাব আমি। তারপরে যেমন আসবে জীবন, লড়ে নেব
: এই জার্নিটা শুরু করতে, লড়তে আর জিততে চাই আলী
: তোমাকে ছাড়া কাউকে জানাইনি...তোমাকে না বলে হতও না আমার
: সামনের সদ্য পরীক্ষাটা শেষ হলে আমি একটা ব্রেক নিয়ে ঘুরতে চাই। বেড়াতে, নিজেকে এক্সপ্লোর করে ফ্রি এয়ার দিতে
: একমাত্র বেড়ালে আমার মাথার বন্ধ কবাট খোলে,নিজের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে পারি
: অন্য সময় নিজের শত্রু হয়ে বসে থাকি
: এই ব্রেকটার পর, পড়াশোনা শুরু, মস্তিষ্কের ধার বাড়ানো... অধ্যবসায় relearn করতে চাই। ভেতরের সমস্ত ভয় তাড়াতে। নতুন প্রজেক্ট শুরু করতে চাই, নতুন কাজের টার্গেট নিয়ে সেগুলো শেষ করা
: নিজের স্কিল বাড়ানো। আর রোজ পড়াশোনা
: এবার পড়াশোনার জন্য একটা খরচ থাকবে, রেজিস্ট্রেশনের। বেড়ানোর, প্রজেক্টের।
: আলী, প্লিজ সঙ্গে থাকো।

No comments:
Post a Comment